
ব্লার্ব কাগজে কলমে দিল্লি থেকে রাজস্থানের তিলোনিয়ার দূরত্ব ৩৬০ কিমি। আজকের যুগে যা নস্যি। তা সত্ত্বেও সত্তরের দশকে অরুণা বলছেন, ‘দুটো যেন সম্পূর্ণ আলাদা জগত।’ এই ভারতবর্ষের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ভারত— তাদের বিপুল বৈচিত্রের সম্ভার নিয়ে। তাকে চেনা, জানা খুব সহজ কাজ নয়। যে মুষ্টিমেয় লোক সেই ভারত-আত্মাকে ধরতে নিজের জীবন পণ করেছেন, অরুণা রায় তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান, আই এ এস অফিসার অরুণা সত্তরের দশকের মাঝামাঝি একদিন সব ছেড়েছুড়ে চলে আসেন রাজস্থানের আজমীড় জেলার তিলোনিয়া গ্রামে— সেখানকার স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের জন্য কাজে যোগ দিতে। কর্মজীবনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিজীবনেরও আমূল পরিবর্তন। গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে করেছেন মাটি কাটার কাজ। কমিউন করে থেকেছেন দেওডুংরির কুঁড়েঘরে। হয়ে উঠেছেন ওদেরই একজন— সত্যিকারের নেত্রী। দুই মলাটের মধ্যে ধরা এ এক মহাজীবনের আখ্যান।